নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
দেশে মশা বহনকারী ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে।
একই সময়ে ১ হাজার ৯৫৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জনে। বিপরীতে, এ পর্যন্ত ৯৭ হাজার ২৯৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা এবং চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর আগে ২০২৫ সালেও ডেঙ্গুতে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন আক্রান্ত হন এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার রোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে মাঠপর্যায়ে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রধানমন্ত্রী পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিং এবং জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে কার্যকর লার্ভা নিধনে সংশ্লিষ্ট সেবামূলক সংস্থাগুলোকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা প্রধানত দিনে কামড়ানো এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—হঠাৎ তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ও মাংসপেশিতে ব্যথা এবং শরীরে হামের মতো দানা দেখা দেয়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী বিশ্রামে থাকলে ও প্রচুর তরল খাবার খেলে স্বাভাবিক নিয়মে সুস্থ হলেও মারাত্মক বা হেমোরেজিক ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল নাগরিককে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে:
১. পানি জমতে না দেওয়া: বালতি, টব, ড্রাম, এসি বা ফ্রিজের ট্রে, ডাবের খোসা ও টায়ারে ৫ দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
২. পরিবেশ পরিষ্কার রাখা: বাড়ির চারপাশ, ছাদ, বারান্দা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৩. ব্যক্তিগত সুরক্ষা: দিনের বেলায় মশারি ব্যবহার করা বা শরীর ঢাকা পোশাক পরা উচিত।
সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই মহামারি সমতুল্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।







