October 30, 2026 5:44 am
■
October 30, 2026 5:44 am

পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস: সময় কমবে ৩ ঘণ্টা, ভাড়া কমবে হাজার টাকা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করলে যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে ভাড়া কমতে পারে প্রায় ১ হাজার টাকা।

এ কারণে মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিচালনায় পদ্মা সেতু-বেনাপোল রেলপথ ব্যবহারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের নির্ধারিত সময় প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
তবে পথে যানজট ও অন্যান্য পরিচালনাগত জটিলতায় অনেক সময় যাত্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টাও লেগে যায়। নতুন পথে ট্রেনটি চালানো সম্ভব হলে যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা যেতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন পথে ট্রেন চালানোর আগে রেলপথের সক্ষমতা, ট্রেন চলাচলের সময়সূচি, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ও ভাড়া নির্ধারণসহ বিভিন্ন কারিগরি ও পরিচালনাগত বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে।

সাধারণ যাত্রীদের জন্য স্বস্তি
ঢাকা-কলকাতা রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের জন্য মৈত্রী এক্সপ্রেস বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনমাধ্যম। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য কলকাতাগামী রোগী, বয়স্ক যাত্রী, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার, ব্যবসায়ী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া মানুষের কাছে ট্রেনটি জনপ্রিয়।

আকাশপথের তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছে মৈত্রী এক্সপ্রেসের চাহিদা উল্লেখযোগ্য। যাত্রার সময় কমলে এসব যাত্রীর ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেসে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬০ জন যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। তাদের প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশি।

ট্রেনটিতে স্বাভাবিক সময়ে আসন ব্যবহারের হার ছিল ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। ঈদ ও দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবের সময় এ হার ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেত।

যেভাবে বদলাতে পারে যাত্রাপথ
২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হয়। এর মধ্য দিয়ে ৪৩ বছর পর দুই শহরের মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ট্রেনটি ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল, যমুনা সেতু, ঈশ্বরদী ও দর্শনা হয়ে ভারতে প্রবেশ করত। এ পথে ঢাকা থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৩৯২ কিলোমিটার।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশের তৎকালীন অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনটির চলাচল স্থগিত রয়েছে।

এদিকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। নতুন এ রেলপথ রাজধানী থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

বর্তমানে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে বেনাপোল যেতে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় নেয়। ফিরতি পথে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। এ কারণে মৈত্রী এক্সপ্রেসকেও পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোল দিয়ে ভারতে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত রেল বৈঠকে আলোচনা
গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে (আইজিআরএম) পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিচালনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পথে ট্রেনটি চালানো সম্ভব হলে ঢাকা-কলকাতা যাত্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় কমতে পারে। এতে যাত্রার সময় প্রায় ৬ ঘণ্টায় নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নতুন রুটে ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে সমন্বয়, সীমান্তে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম এবং ট্রেন পরিচালনার সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

মৈত্রী এক্সপ্রেসের নামের অর্থ বন্ধুত্ব। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটি দুই দেশের মানুষের যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

প্রস্তাবিত রুট পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রার সময় কমানোই নয়, বরং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের কর্মকর্তারা যা বলছেন
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচলের বিষয়ে ভারত কোনো প্রস্তাব পাঠালে সরকার তা বিবেচনা করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে মূল উদ্যোগ ভারতীয় পক্ষকেই নিতে হবে। ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রস্তাব আসার পর এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন মিললেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের অ্যাডিশনাল মেম্বার (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা বলেছেন, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু করতে আগ্রহী ভারত।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে মৈত্রী এক্সপ্রেসের বর্তমান রুট পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু ও যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে কলকাতা পর্যন্ত চলাচলের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান রুটে ঢাকা থেকে যমুনা সেতু ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে কলকাতা পর্যন্ত যে দূরত্ব, প্রস্তাবিত রুটে তা অনেক কম। এর ফলে জ্বালানি খরচ যেমন কমবে, তেমনি সময়ও অনেক কমে যাবে। এ কারণে যাত্রীভাড়াও কমবে।

তিনি জনস্বার্থে প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর