October 29, 2026 4:55 am
■
October 29, 2026 4:55 am

ঢাকার ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই, সংরক্ষিত আসনেও বসেন পুরুষরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
রাজধানীর লোকাল বাসে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের চলাচল দুর্ভোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাসে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

আবার প্রায় ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে চলন্ত বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকছে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) যৌথ পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক মাস ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটের অর্ধশতাধিক বাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ সময় যাত্রী, পরিবহন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেন পর্যবেক্ষকরা।

এ বিষয়ে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে জানান, ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে চলাচল করছে। বাসমালিকদের যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফার দিকেই নজর বেশি।
এসব অনিয়ম বন্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ নাগরিকদের জন্য প্রতিটি বাসে ৯টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিছু বাসে এ নির্দেশনার কথা লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসে তা উল্লেখ নেই। তবে কোনো বাসেই নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। যাত্রীভর্তি লোকাল বাসে সংরক্ষিত আসনগুলোতে পুরুষ যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা যায়।
অন্যদিকে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে তাদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি অস্বস্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে।

লোকাল বাসে হেলপার না থাকাকে যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংগঠন দুটি। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই। এসব বাসে চালক মালিকের কাছ থেকে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া নেন। পরে একজন কন্ডাক্টর নিয়ে বাস চালান। দিন শেষে মালিকের পাওনা পরিশোধ করে বাকি অর্থ চালক ও কন্ডাক্টর ভাগ করে নেন। খরচ কমানোর জন্য হেলপার রাখা হয় না বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হেলপার না থাকায় কন্ডাক্টরকে একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে হয়, অন্যদিকে বিভিন্ন স্টপেজে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো ও নামানোর কাজও করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যত্রতত্র বাস থামিয়ে তাড়াহুড়া করে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠতে ও নামতে হয়। বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেশি থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চার দফা সুপারিশ করেছে সংগঠন দুটি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. নগর পরিবহনের সব বাসে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৯টি আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা;

২. চালক ও কন্ডাক্টরের পাশাপাশি প্রতিটি বাসে একজন হেলপার নিয়োগ দেওয়া;
৩. চালক বা কন্ডাক্টরের কাছে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া দেওয়ার প্রথা বন্ধ করা এবং

৪. সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো কঠোরভাবে প্রতিহত করা।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর