নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
আফগানিস্তানে তালেবান সরকার এফএম রেডিও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত বিবিসির সমস্ত সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মতে, বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে আপাতত দেশজুড়ে বিবিসির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে—রেডিওতে গান নিষিদ্ধ করা হয়, পর্দায় নারীদের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া হয় এবং নারী-পুরুষ সাংবাদিকদের একসাথে পর্দায় আসা বন্ধ করা হয়। ২০২২ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মিডিয়া হিসেবে একমাত্র বিবিসিই আফগানিস্তানে সরাসরি সম্প্রচার চালাচ্ছিল।
১৯৮১ সাল থেকে চালু থাকা ‘বিবিসি আফগান সার্ভিস’ আফগানদের জন্য সংবাদের অন্যতম ভরসা ছিল। বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধের পর বিবিসির নানা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেশটির ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাত। বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, এফএম বন্ধ হলেও পশতু, দরি ও ইংরেজি ভাষায় শর্টওয়েভ, মিডিয়ামওয়েভ, স্যাটেলাইট ও অনলাইনে তাদের স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত থাকবে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশেও দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথচলা শেষে বন্ধ হয়ে যায় বিবিসি বাংলা রেডিও। ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর বিশ্বযুদ্ধের সময় শুরু হওয়া বিবিসি বাংলা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছিল।
দীর্ঘ ৮১ বছরে ‘প্রবাহ’, ‘পরিক্রমা’ ও ‘বাংলাদেশ সংলাপ’-এর মতো অনুষ্ঠানগুলো বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
২০২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর রাতে বিবিসি বাংলা তাদের রেডিও সম্প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে রেডিও শ্রোতার সংখ্যা কমে যাওয়া, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মনোযোগ বাড়াতে তাদের নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে বিবিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে, অসমর্থিত সূত্র জানায়, এর পেছনে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর ইন্ধন ছিল। তবে,
বর্তমানে রেডিও বন্ধ থাকলেও ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে বিবিসি বাংলা সক্রিয় রয়েছে।







