নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
হাতে আর মাত্র দুইদিন, দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
মণ্ডপে মণ্ডপে যখন চলছে প্রতিমা সুসজ্জ্বিত করার কাজ, তখন ক্রেতাদের কেনাকাটার বড় একটি অংশ দখল করে নিয়েছে অনলাইন ই-কমার্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো।
ভিড়ভাট্টা এবং যানজট এড়িয়ে ঘরে বসেই পছন্দসই পোশাক, গয়না, প্রসাধনী এমনকি পূজার প্রসাদ ও ঐতিহ্যবাহী খাবার কেনার সুবিধায় ডিজিটাল মাধ্যমই এখন সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসা।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
উৎসবের প্রধান চার দিন—মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর জন্য শাড়ি, জামদানি, কাতান, সালোয়ার-কামিজ ও পাঞ্জাবির মতো পোশাক বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। ফ্যাশন হাউস ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা এবার এনেছেন নানা বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ। অনলাইন পোশাক উদ্যোক্তা নূরুন নাহার তৃপ্তি জানান, “আমাদের ‘শারদ উৎসব’ কালেকশনে শিউলি ও পদ্ম ফুলের মোটিফের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ‘টাপা পুতুল’ এবং ভ্রমণের থিম ব্যবহার করা হয়েছে, যা তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।” ব্যাংকার মেঘাবতী রায়ের মতো অনেকেই এবার পূজার বিশেষ শাড়ি কিনেছেন অনলাইন থেকে।
প্রসাধনী, অলংকার ও গৃহসজ্জা
শুধু পোশাকই নয়, ঐতিহ্যবাহী গয়না, চামড়ার ব্যাগ, হস্তশিল্প ও পরিবেশবান্ধব গৃহস্থালি সামগ্রীর চাহিদাও আকাশচুম্বী। অনন্যা, চিত্রাঙ্গদা, বিমূর্ত, পটের বিবি, কাদম্বরী, আটকুঠুরি নয় দরোজা, সুতোন্টু এবং মৃন্ময়ীর মতো ফেসবুক ও ই-কমার্সভিত্তিক জনপ্রিয় পেজগুলোতে পূজার গয়না ও পোশাকের সমাহার জমজমাট।
অনলাইনে পূজার মিষ্টি ও খাবারের নতুন মাত্রা
পূজার মূল আকর্ষণ নাড়ু, সন্দেশ, লুচি ও লাবড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের চাহিদাও এবার অনলাইনে তুঙ্গে। খাবার বিক্রেতা প্রিয়াঙ্কা দে প্রজ্ঞা জানান, প্রবাসীরাও দেশস্থ স্বজনদের জন্য অনলাইনে অর্ডার পাঠাচ্ছেন।
অন্যদিকে ‘অনন্যা’ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জ্যোতির্ময় চাকী জানান, ২০২০ সালে শুরু করা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী নাড়ু বিক্রির পরিমাণ বছর বছর বেড়ে গত বছর প্রায় ৫০০ কেজিতে পৌঁছেছে, যা এ বছর আরও ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যেমন দেশজুড়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি গ্রাহকদের জন্যও তৈরি করেছে নতুন স্বাচ্ছন্দ্য। তবে এই কেনাকাটার ধারা ধরে রাখতে লোভনীয় অফার ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সেবা, সঠিক মান ও সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করাই এখন অনলাইন উদ্যোক্তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল যুগের এই পরিবর্তন পূজার আনন্দকে পৌঁছে দিচ্ছে আরও সহজ ও সাবলীলভাবে।







