October 29, 2026 4:41 am
■
October 29, 2026 4:41 am

প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে যতো কথা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের আলোচনার মধ্যেই মন্ত্রিসভার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

 

যদিও পদত্যাগের ঘোষণার আগেরদিন দুটি সরকারি গণমাধ্যম বাসস ও বিটিভির বরাত দিয়ে দেশের সকল প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ প্রচার করেছিল যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের জন্য ইশরাক হোসেনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকে পদত্যাগের খবরকে গুজব বলে দাবি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত না করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন, ইশরাকের এই পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে তাঁর সামনে আরও বৃহত্তর ও গণমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচিত হতে পারে।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে তিনি থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার সহযোগিতা চেয়েও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ পাননি।

 

এলাকার ভোটার ও জনগণের তীব্র চাপের মুখেই তিনি বাধ্য হয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নিজে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, “সেদিন চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছি।” তবে অভিযানের সময় তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন কারও গায়ে একটি টোকাও না পড়ে এবং সবাইকে যেন আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। মাদককে দেশের ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে ইশরাক জানান, ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে তিনি এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। এছাড়া দলের প্রয়োজনে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও তিনি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনের পর রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন ইশরাক হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাদক সমস্যার প্রতিকারের বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। স্ট্যাটাসে ইশরাক লেখেন, মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগের পরিবর্তে আইনের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং হুশিয়ারি দিয়ে লেখেন—”শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার/বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।”

 

সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর ৩টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ছাদখোলা প্রাডো জিপে চড়ে নিজ বাসভবন গোপীবাগের উদ্দেশে রওনা হন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা শত শত নেতাকর্মী “মাদকের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও” এবং “ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। মিছিলে যানজটের কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়তে দেখলে ইশরাক নিজে এগিয়ে গিয়ে পথ করে দেন। এরপর নেতাকর্মীদের নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি ইত্তেফাক মোড় থেকে একাই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। গোপীবাগের বাসায় পৌঁছালে সমর্থকেরা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান এবং তাঁকে ভবিষ্যতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়ে স্লোগান দেন।

 

সৌদি আরব থেকে ওমরাহ পালনরত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে ‘ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, রাজপথের আপসহীন লড়াইয়ের মুখ ইশরাকের এই পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়। তাঁর সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে উদ্যোগের নৈতিকতা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, আত্মোপলব্ধি ও জনগণের ভালোবাসায় ইশরাকের সামনে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচিত হবে এবং সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতার ধারা বজায় থাকবে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর