নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এবার ভিন্নধর্মী থিম ও সৃজনশীল ভাবনার মধ্য দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে নানা সামাজিক অসংগতি, মানবিক মূল্যবোধ ও গভীর জীবনদর্শন। চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় এবার মোট ২,৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজিত হচ্ছে (নগরে ২৯৪টি ও জেলায় ২,৫৫৭টি)। এর মধ্যে থিমভিত্তিক পূজাগুলো তাদের অনন্য নির্মাণশৈলী ও গভীর বার্তার কারণে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
উত্তর কাট্টলীর সেবাখোলা ও বৈকুণ্ঠধাম পূজা মণ্ডপের ‘রিপু রজনী’ থিমে মানুষের ছয়টি রিপু বা অন্তর্দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে আধ্যাত্মিক লড়াইয়ের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমা তৈরিতে মাটির বদলে মেটালের ব্যবহার এবং নীল লেজার আলো ও কৃত্রিম কুয়াশার প্রয়োগে মণ্ডপে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করা হয়েছে। একই এলাকার কালীবাড়ির ‘অবিনশ্বর’ থিমে মহাকাল ও অঘোরী সাধনার আবহ তুলে ধরা হয়। এছাড়া খলিফা পট্টির ‘রক্তাঞ্জলি’ থিমে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ, গোসাইলডাঙ্গায় ‘চড়ক পূজা’, এবং দক্ষিণ নালাপাড়ায় ‘পার্বন’ থিমে আদিবাসী রূপে দেবী দুর্গাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপেই উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকরা; দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের মতে, স্বাধীনতার পর কোনো সরকারপ্রধানের চট্টগ্রামে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের ঘটনা এটিই প্রথম। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বহু গুণ বেড়ে গেছে এবং এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ জানান, দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। থিমভিত্তিক এই আয়োজনগুলো সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও নতুন সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।







