October 29, 2026 4:53 am
■
October 29, 2026 4:53 am

ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সংস্কৃতিতে আঘাত, ৩৭ বিশিষ্ট নাগরিকের প্রতিবাদ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিজাব নিয়ে অপপ্রচার, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালিমা লেপনের অপচেষ্টা এবং ক্রমবর্ধমান ধর্মান্ধতাকে পুঁজি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের ৩৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এ ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে তারা এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।

বিবৃতির তথ্যমতে, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুবের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সাথে একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। শ্রেণিকক্ষে কার্যকর যোগাযোগের সুবিধার জন্য নিকাব পরা এক শিক্ষার্থীর মুখমণ্ডল দেখতে চাওয়ার সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে একটি ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে প্রশাসনিক অভিযোগ করা হয়। অধ্যাপক তাসনীম স্পষ্ট করেন যে, তিনি কাউকে নিকাব খুলতে বা ক্লাস ত্যাগ করতে নির্দেশ দেননি। ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে আলোচনার সুযোগ থাকলেও তা না করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

একইসঙ্গে, গত ৯ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালিমা লেপনের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সেগুনবাগিচায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সত্যজিৎ রায় ও কাজী নজরুল ইসলামের চিত্রকর্ম নিয়েও অপপ্রচার করা হয়। নাগরিক সমাজ মনে করেন, ষাটের দশকে পাকিস্তানি শাসকদের মতো আজও রবীন্দ্রনাথ ও বাঙালি সংস্কৃতিকে ধর্মান্ধতার দোহাই দিয়ে বিতর্কিত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

বিবৃতিতে ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক উল্লেখ করেন, আপাতদৃষ্টিতে ঘটনা দুটি বিচ্ছিন্ন মনে হলেও এর পেছনে সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের অবিভাজ্য সম্পদ—তাকে ধর্ম বা ভৌগোলিক সীমারেখায় ভাগ করা যায় না। তারা ঘটনা দুটির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং দেশবাসীকে এসব উসকানিমূলক ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানান।

এসোসিয়েশন ফর ল্যাণ্ড রিফর্ম অব বাংলাদেশ (এএলআরডি)’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার পাঠানো এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন – জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও মানবাধিকারকর্মী, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য, শিরীন পারভিন হক, টিআই-বি’র নির্বাহী পরিচালক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, লেখক ও সাংবাদিক, আবু সাঈদ খান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স এবং পলিটিকাল সাইন্স, ভিজিটিং প্রফেসর, ড. স্বপন আদনান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ড. নোভা আহমেদ, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ড. ফিরদৌস আজিম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারাহ তানজীম তিতিল, লেখক রেহনুমা আহমেদ, সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক, ড. ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী সাদাফ নুর, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এড. সাইদুর রহমান, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ. বাপার সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর কবির, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, কবি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কর্মী মিঠুন রাকসাম, কবি ও আদিবাসী কর্মী হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, অধিকার কর্মী ড. হানা শামস আহমেদ ও অধিকার কর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর