October 29, 2026 2:56 am
■
October 29, 2026 2:56 am

সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিএনপি

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
ক্ষমতাসীন দল হিসেবে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা, নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে বিএনপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সামনে এসেছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে-এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ। সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও পদত্যাগের আকস্মিক সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন তিনি।
এই পদত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযান।

ওই অভিযানে অস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযানের ধরন, একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতিতে একজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকা কী হওয়া উচিত-এসব বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ওঠে।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইশরাক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দল ও সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বিব্রতকর অবস্থায় না পড়ে, সেই নৈতিক বিবেচনা থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের দৃঢ় আগ্রহের কথাও জানান তিনি। তার মতে, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য মন্ত্রীর পদে আসীন থাকা অপরিহার্য নয়।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তী সময়ে সংসদ সচিবালয় নিয়ম অনুযায়ী তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তার পদত্যাগের পেছনে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলচেষ্টার গুরুতর অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ওই ঘটনার সঙ্গে সংসদ সদস্য মিষ্টির নাম জড়িয়ে পড়লে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ব্যক্তিপর্যায়ের পদত্যাগের পাশাপাশি দলীয় সংগঠনেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি আকস্মিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে মিরপুরে একটি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনার সঙ্গে এই কমিটি বিলুপ্তির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।

সাংগঠনিক এই কমিটি বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন, পরীক্ষিত নেতৃত্ব নির্বাচন এবং পুরো সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর ওপর। নতুন নেতৃত্ব তৃণমূলের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের জনসংযোগ কেমন হবে এবং আগামী দিনের দলীয় কর্মসূচি কতটা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের বাস্তব ফলাফল।

শুধু বড় পদধারী নেতারাই নন, বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পাশাপাশি মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১৪ জন নেতাকে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক গোলাম হাফিজ বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে সম্পর্কটি এক সুতোয় গাঁথা হয়ে যায়। দলের কোনো নেতার ব্যক্তিগত আচরণ বা কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তা অনিবার্যভাবে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবার সরকারি দায়িত্বে থেকে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার রাজনৈতিক দায়ভার দলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপরও এসে পড়ে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ইশরাক হোসেন ও ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তি এবং ১৪ নেতার বহিষ্কারের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, বিএনপি সরকার ও দলের ভাবমূর্তি নিয়ে অত্যন্ত সজাগ। ব্যক্তিপর্যায়ের যেকোনো বিতর্ক এবং সাংগঠনিক স্থবিরতা দূর করতে কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয় দলটি।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর