নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ পিটিবি ডটকম
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
পূজা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১৬টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
একই সঙ্গে উৎসব চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূজা উপলক্ষে নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া রাতে স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দিনে স্পিডবোট চলাচলের ক্ষেত্রে মাঝনদী এড়িয়ে চলা ও যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
টার্মিনাল ও পন্টুনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, ওভারলোডিং প্রতিরোধ এবং নদীর মাঝপথে নৌকা বা ট্রলারে যাত্রী ওঠানামা বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার ও আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নৌযাত্রায় জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা (৯৯৯), ফায়ার সার্ভিস (১০২), বিআইডব্লিউটিএ যাত্রীসেবা (১৬১১৩) এবং কোস্ট গার্ডের (১৬১১১) মতো হটলাইন নম্বরগুলো লঞ্চে প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও বিশ্রামের মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থলভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় শক্ত অবস্থানে থাকছে বিজিবি। বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশেষ করে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ও সংলগ্ন ২,৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিবিড় নিরাপত্তা সহায়তা দেবে সংস্থাটি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিজিবি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কাবস্থানে থাকবে। ঢাকার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশের পাশাপাশি কাজ করতে বিজিবির কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জল ও স্থলপথের এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।







